গল্পঃ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা
সময়ঃ ১লা মে, ২০১৪
উৎসর্গ: সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি

- টুক... টুক... কিসের শব্দ! দ্যাত তেরিকা মেজাজ গরম কইরা দিল - "ঐ এত রাইতে কি হইল তোর? আমারে মাফ কররে বাপ, একটু ঘুমাইবার দেয়। দুই নয়নের পাতা এক হইছিল তখনই দিলি তো সব পন্ড কইরা। দূরে গিয়া মর হতছাড়া" না এখন ঘুমিয়ে গেলে চলবে না। আজ রাতের ভিতরে কাজটা শেষ করা চাই। কাল না হলে কি বিক্রি করবে? আজকে ফেরার পথে তো সব জলে গেল। কাঠের তৈরি পুতুলগুলো আজ সব রাস্তার মাঝখানে পড়ইরা শেষ। এসব কথা যখন ভাবছিলাম তখন বাপজান চিৎকার দিয়ে আমারে সতর্ক করলেন। কিন্তু কোন শব্দ না করে তো এগুলো বানানো সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ চলে গেছে অনেকক্ষণ। যে ভাঙ্গা আওয়াজ করা ফ্যান ছিল তাও বন্ধ আছে। নইলে ফ্যানের শব্দে এই আওয়াজ বাপজানের কানে যাওনের কথা না। উপায় না দেখে মন মরা হয়ে বসে থাকি। অপেক্ষায় থাকি কখন বাপজানের ঘুম প্রখর হবে। তখন আবার কাজ শুরু করা যাবে। অাচ্ছা এখন কয়টা বাজে হাত থেকে খুলে রাখা পুরানো বেল্টের সেই বাপজানের কাছ থেকে পাওয়া ঘড়িটা হাতে নিলাম। হুম, ভালোই টাইম হয়েছে। কাজটা যত তাড়াতাড়ি পারি শেষ করে ফেলা উচিত। এই তো সেইদিনই তো বাপজান আমার দিনমজুর দিনে আনে দিনে খাই, নুন আনতে পান্তা ফুরায়। কিন্তু উপরওয়ালার সহ্য হইলো না। মানুষের স্বপ্নপূরণ করতে গিয়া নিজের স্বপ্নে কুড়াল মারল। তার একটা পা হারাইলো। সে এখন বেকার। আমি আর আমার বাপজানই সব। জগত সংসারে এই দুই নিয়াই আমরা। শুনছি বাপজান আর মা এই শহরে আইছিলো বহু স্বপ্ন নিয়া। মা তার স্বপ্ন বাবারে দিয়া গেলো। বাপজানও এখন সেই স্বপ্ন আমারে দিবার চায়। বাপজান ঘুমাইয়া পড়ছে বলে মনে হইতেছে। আমি আমার কাজ আবার শুরু করলাম - "টুক... টুক... টুক..." খুব শীঘ্রই কানে ভেসে এল। মসজিদের সালাদ্দিন মুয়াজ্জিন সাহবের অাযান। হায়!! হায়!! কাজ তো শেষ হলো না। কিছু ই মাথায় আসছে না। মনে হয় আমার করার নেই কিছুই। মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে।তাই পুকুরের দিকে রওনা দিলাম ওযুর উদ্দেশে। - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - তারা স্বপ্ন দেখে, তারা স্বপ্ন বানায়, তারা স্বপ্ন বুনে। তারা আমাদের আপনজনকে হার মানায়। আমাদের স্বপ্নকে তারা বাস্তব রূপ দান করে আর নিজেদেরটা রেখে দেয় অনিশ্চয়তার হাতে - মহান মে দিবস।